আমি প্রবাহমান কলমেঃ দীপঙ্কর বিশ্বাস 15 05 20 আমি আমার ধমনী শিরা উপশিরাতে বয়ে চলেছি, যেখানেই যাই শুনি বাজছে দুন্দুভি! প্রতিটি নিঃস্তব্ধতায় যেন মূক বধির অসাড়তা! শব্দ তরঙ্গেই কেবল বয়ে চলেছে বারতা! নদী ও সাগরের বুকে গাছেদের ভেতরে আমার বয়ে চলা চুপ করে শোনো কান পেতে! লোনা জলের গন্ধতেই আমার জেগে জেগে ওঠা, স্ফিত নাসারন্ধ্র,ভেজা ভেজা চোখের পাতা, ঝড়া পাতা আর রোদের মত আমার এই বয়ে চলা, চেনো নি আমাকে, আমায় চিনে নাও তোমরা। সেই নক্ষত্রজন্ম লগ্নে দেখা হয়েছিল আমার, আমি আছি প্রতিটি জাগরণের অবিরাম ঘুর্ণনের ভেতর! পলিমাটির প্রস্তর ফাটিয়ে দে’খ জীবাশ্ম আমি! আমার ছোঁয়ায় হিজল কাঁঠালের খুশি, কেঁপে ওঠে পান পাতা মুখ। অনাহারীদের সাথেই আমার সুখ! প্রতিদিন প্রাণ বাজি রেখে বুক চিতিয়ে চলা, ছলকে ওঠে আমার চোখের জলজ বিন্দুরা…… আকাশ থেকে লাফিয়ে নেমে আসে বাজ! অন্ধকার কোনগুলো ঢেউ হতে শুরু করছে আজ, এ কেবল ঢেউ আর ঢেউ! ঢেউয়ের পর ঢেউ! পুড়ে চলেছে ফলক পুড়ে চলেছে ভাস্কর্যের কেউ কেউ! এই বয়ে চলাতেও আমি আর আমি……. কানে কানে চেতনাকে বলে চলেছি, আমাকে আরো আরো সজীব করো! আমার হুশ বাঁচিয়ে রেখো! আমি ঘরে ঘরে গিয়ে চিৎকার করে চলেছি- জাগো হে জাগো ! জ্বলে উঠে আরো আরো আগুন জ্বালো! কেড়ে নাও আপন অধিকার! উন্মাদের হাত থেকে মৃত্যুর পরোয়ানা কেড়ে নাও এবার! আর চাই না নিরন্ন শ্রমিক…… দেখব না আর হাজার মাইল হাঁটা অভুক্ত লোক ! শিশুরা তৃষ্ণার্ত তাও বুভুক্ষুর পথেই বাধ্য থাকে….. সাম্রাজ্যের গা ঘেঁষে এখনো তারাই হেঁটে চলেছে! মেহনতীরা রেল গাড়ির চাকার নিচে মরছে দেখি! পৃষ্ট হচ্ছে শ্রম,তাও মুক্ত হল না দেশের মাটি! আমি মৃত্যুকামীদের মৃত্যুর প্রহর গুনছি…. আমি এখন বয়ে যেতে যেতে সবই দেখছি! ওরা ব্যালকনিতে দাঁড় করিয়ে তালি দিতে বলে, ওরা কাঁসর ঘন্টা শঙ্খধ্বনি বাজাতে বলে, ওরা মোমবাতি জ্বেলে জ্বেলে শয়তানি করে, ওদেরই তো উদ্ধত তর্জনী আজকে ! ডুবে যাক ওরা বিষাদের মহা সমুদ্রে, জ্বলন্ত নরকরা খসে খসে পড়ুক তবে! ওরা চিরকাল বর্ণহীন শয়তান, ওরাই মূক বধির ঈশ্বরের সম্পর্কের পুষ্পবিথী এখন! ভালো করে দে’খ সকলে, কান পেতে পেতে ভালো করে শো’ন সবে, ওই পাতায় পাতায় বাজছে মর্মর ধ্বনি! নদীর কুলু কুলু শব্দের ঝংকারও পাহাড়ী, ওই যে সমুদ্র গর্জন ধেয়ে ধেয়ে আসছে….. আমি বয়ে চলেছি শিরা উপশিরা ধমনীতে! copyright act প্রযোজ্য

আমি প্রবাহমান
কলমেঃ দীপঙ্কর বিশ্বাস
15 05 20

আমি আমার ধমনী শিরা উপশিরাতে বয়ে চলেছি,
যেখানেই যাই শুনি বাজছে দুন্দুভি!
প্রতিটি নিঃস্তব্ধতায় যেন মূক বধির অসাড়তা!
শব্দ তরঙ্গেই কেবল বয়ে চলেছে বারতা!
নদী ও সাগরের বুকে গাছেদের ভেতরে
আমার বয়ে চলা চুপ করে শোনো কান পেতে!
লোনা জলের গন্ধতেই আমার জেগে জেগে ওঠা,
স্ফিত নাসারন্ধ্র,ভেজা ভেজা চোখের পাতা,
ঝড়া পাতা আর রোদের মত আমার এই বয়ে চলা,
চেনো নি আমাকে, আমায় চিনে নাও তোমরা।
সেই নক্ষত্রজন্ম লগ্নে দেখা হয়েছিল আমার,
আমি আছি প্রতিটি জাগরণের অবিরাম ঘুর্ণনের ভেতর!
পলিমাটির প্রস্তর ফাটিয়ে দে’খ জীবাশ্ম আমি!
আমার ছোঁয়ায় হিজল কাঁঠালের খুশি,
কেঁপে ওঠে পান পাতা মুখ।
অনাহারীদের সাথেই আমার সুখ!
প্রতিদিন প্রাণ বাজি রেখে বুক চিতিয়ে চলা,
ছলকে ওঠে আমার চোখের জলজ বিন্দুরা……
আকাশ থেকে লাফিয়ে নেমে আসে বাজ!
অন্ধকার কোনগুলো ঢেউ হতে শুরু করছে আজ,
এ কেবল ঢেউ আর ঢেউ! ঢেউয়ের পর ঢেউ!
পুড়ে চলেছে ফলক পুড়ে চলেছে ভাস্কর্যের কেউ কেউ!
এই বয়ে চলাতেও আমি আর আমি…….
কানে কানে চেতনাকে বলে চলেছি,
আমাকে আরো আরো সজীব করো!
আমার হুশ বাঁচিয়ে রেখো!
আমি ঘরে ঘরে গিয়ে চিৎকার করে চলেছি-
জাগো হে জাগো !
জ্বলে উঠে আরো আরো আগুন জ্বালো!
কেড়ে নাও আপন অধিকার!
উন্মাদের হাত থেকে মৃত্যুর পরোয়ানা কেড়ে নাও এবার!
আর চাই না নিরন্ন শ্রমিক……
দেখব না আর হাজার মাইল হাঁটা অভুক্ত লোক !
শিশুরা তৃষ্ণার্ত তাও বুভুক্ষুর পথেই বাধ্য থাকে…..
সাম্রাজ্যের গা ঘেঁষে এখনো তারাই হেঁটে চলেছে!
মেহনতীরা রেল গাড়ির চাকার নিচে মরছে দেখি!
পৃষ্ট হচ্ছে শ্রম,তাও মুক্ত হল না দেশের মাটি!
আমি মৃত্যুকামীদের মৃত্যুর প্রহর গুনছি….
আমি এখন বয়ে যেতে যেতে সবই দেখছি!
ওরা ব্যালকনিতে দাঁড় করিয়ে তালি দিতে বলে,
ওরা কাঁসর ঘন্টা শঙ্খধ্বনি বাজাতে বলে,
ওরা মোমবাতি জ্বেলে জ্বেলে শয়তানি করে,
ওদেরই তো উদ্ধত তর্জনী আজকে !
ডুবে যাক ওরা বিষাদের মহা সমুদ্রে,
জ্বলন্ত নরকরা খসে খসে পড়ুক তবে!
ওরা চিরকাল বর্ণহীন শয়তান,
ওরাই মূক বধির ঈশ্বরের সম্পর্কের পুষ্পবিথী এখন!
ভালো করে দে’খ সকলে,
কান পেতে পেতে ভালো করে শো’ন সবে,
ওই পাতায় পাতায় বাজছে মর্মর ধ্বনি!
নদীর কুলু কুলু শব্দের ঝংকারও পাহাড়ী,
ওই যে সমুদ্র গর্জন ধেয়ে ধেয়ে আসছে…..
আমি বয়ে চলেছি শিরা উপশিরা ধমনীতে!

copyright act প্রযোজ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *