কলেজে কলেজে রমরমিয়ে চলছে দুর্নীতি। শাসকদলের গাজোয়ারি, হুমকি। আর তা নিয়েই মমতা সরকারকে নিশানা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু বলেন ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজে চোর। মুখ্যমন্ত্রী যখন চোর হয় তার শাখা-প্রশাখা সবকিছুই চোর হয়। আমি আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে একটা ক্যালেন্ডার প্রকাশ করব। কলেজগুলোতে এই যে ভাইপো গ্যাং, তোলামূলের টিম… সেসব তথ্য ও ছবি দিয়ে প্রকাশ করব। ভাইপো আসার পর থেকে লাল চুল, কানে দুল এই কোম্পানির কলেজে ইউনিভার্সিটিতে কি হয়েছে তার গ্যালারি প্রকাশ করব।’
শনিবার সন্ধ্যায় পানিহাটিতে আরজিকর মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের সেই নিহত ডাক্তারি ছাত্রীর পরিবারের সাথে দেখা করে এই মন্তব্য করেন শুভেন্দু।
সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন ‘নিহত ছাত্রীর বাবা-মা শিয়ালদহ এবং কলকাতা হাইকোর্টে যে আইনি লড়াই লড়ছেন- একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি তাতে সমর্থন জানিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি আরজি করে যেভাবে নিষ্ঠুর হত্যা হয়েছিল তাতে তদন্তকারী সংস্থা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিতে বাধ্য হয়েছে। ঠিক একইভাবে ডাক্তার বোনের ক্ষেত্রেও আদালতে তাদের যে আইনি লড়াই চলছে তারও ফলাফল নিশ্চিতভাবে আমাদের যে দাবি ও আশা তা পূরণ হয়েছে।
আজকের পশ্চিমবাংলায় যে কটা ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ডাক্তার বোনের বাবা-মায়ের যে লড়াই রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মেরুদন্ড সোজা রেখে যে এই হিংসাশ্রয় সরকারের বিরুদ্ধে যে লড়াই তা অন্য কেউ পারবেন বলে মনে হয় না। আমি তাই তাদের কৃতজ্ঞতা প্রণাম জানাচ্ছি।
আমরা বলেছি যে, ৯ আগস্ট ভয়ংকর ঘটনার বর্ষপূর্তিতে অরাজনৈতিকভাবে যদিও ডাক্তার বোনের পিতা-মাতা নবান্ন চলো অভিযান কর্মসূচির ডাক দেন তবে রাজনৈতিক পতাকা সরিয়ে রেখে আমরা সকলেই তাতে অংশগ্রহণ করব। ও রাজনৈতিকভাবে নাগরিক সমাজ, ছাত্রসমাজ, যুব সমাজ- সকালেই এগিয়ে এসে ৯ আগস্ট রাত দখলের কর্মসূচি পালিত হোক এটা মায়ের ইচ্ছা। আমি সকলকে নিয়ে এটাকে অর্গানাইজ করব। ডাক্তার বোনের বাবা-মা ও আমাকে কথা দিয়েছেন ওরাও সেদিন থাকবেন। বিস্তারিত পরে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।
আরজিকরের ঘটনার পরে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমরা বলেছি যে ইস্যুতে এই ইস্যু নিয়ে লড়াই হলেই পতাকা ছাড়া আমাদের যেতে কোন আপত্তি নেই। আমরা যেরকম দু পতাকা নিয়ে দলীয় কর্মসূচি করব আবার পতাকা বর্জিত কর্মসূচিতেও বিজেপির কোন কর্মী সমর্থক ভোটারের যেতে আপত্তি নেই। কিন্তু ন্যূনতম সম্মান যেন প্রত্যেকের থাকে এটা নিশ্চিত করতে হবে। অভিজিৎ গাঙ্গুলী বা অগ্নিমিত্রা পালদের মতো অসম্মানজনক পরিস্থিতি যেন তৈরি না করেন।
গত বছরের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয় এক তরুণী চিকিৎসক। ওই ঘটনায় গোটা দেশে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজ, চিকিৎসক সমাজ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল। এমনকি রাত দখল অভিযান দেখা গিয়েছিল। সেই নৃশংস ঘটনার এক বছর হতে চললো কিন্তু এখনো ন্যায় বিচার মেলেনি। ফলে এবার ন্যায় বিচার চেয়ে আগামী ৯ আগস্ট মেয়ের হত্যার বর্ষপূর্তির দিন নবান্ন চলো ডাক দিলেন সেই নিহত ছাত্রীর পরিবার। সরকারকে বুঝিয়ে দিতে ১৪ আগস্ট রাত দখলেরও আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রীর বাবা-মা।
